০১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

এআই কি পারবে একাকীত্ব দূর করতে

অনলাইন প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২৩-০৬-২০২৬
এআই কি পারবে একাকীত্ব দূর করতে চ্যাটবটগুলো দিন দিন মানুষের বন্ধু, উপদেষ্টা কিংবা জীবনসঙ্গীর জায়গা করে নিচ্ছে। প্রতীকী ছবি


আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সঙ্গী, সামাজিক রোবট এবং চ্যাটবটগুলো দিন দিন মানুষের বন্ধু, উপদেষ্টা কিংবা জীবনসঙ্গীর জায়গা করে নিচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই উন্নত মাধ্যমগুলো সাময়িকভাবে একাকীত্ব কমাতে এবং তাৎক্ষণিক মানসিক সমর্থন দিতে পারলেও, সত্যিকারের মানুষের মতো অনুভূতি ও নৈতিক দায়িত্ববোধ এগুলোর নেই। ফলে বাস্তব সম্পর্কের জায়গায় এআই-চালিত এই মিথস্ক্রিয়া আমাদের মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক বন্ধনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে এখন মানুষের সংজ্ঞাই বদলে যাচ্ছে। গবেষণা বলছে, ৬৮ শতাংশ ব্যবহারকারী এআই চ্যাটবটকে মানুষের মতো মনে করেন এবং এদের বুদ্ধিমত্তা ও সহানুভূতি রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। রেপ্লিকা নামক একটি প্ল্যাটফর্মের বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে, যারা এটিকে একাকীত্ব দূর করার ডিজিটাল সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করছে।
 

এই পরিবর্তনের ফলে সমাজে এক অভূতপূর্ব প্রভাব পড়ছে। জাপানের হিকিকোমোরি নামক সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার ১৫ লাখের বেশি মানুষ এখন ভার্চুয়াল সঙ্গীদের দিকে ঝুঁকছেন। এমনকি গেটবক্স-এর মাধ্যমে ‘হাতসুনে মিকু’র মতো হলোগ্রামকে বিয়ে করার জন্য হাজার হাজার মানুষ ম্যারেজ সার্টিফিকেটের আবেদনও করেছেন। এআই এখন কেবল একটি যন্ত্র নয়, অনেক সমাজে ধর্মীয় নেতার ভূমিকাও পালন করছে।

 

এআই বটগুলো অন্তহীন ধৈর্যশীল এবং সব সময় পাশে থাকে ঠিকই, কিন্তু তারা কখনোই মানুষের মতো খাঁটি সুখ দিতে পারে না। কারণ এগুলো কেবল সহানুভূতির ভান বা অনুকরণ করে, বাস্তবে তা অনুভব করে না। এগুলোর নিজস্ব কোনও স্বাধীন ইচ্ছা, নৈতিক বা আইনি দায়বদ্ধতা এবং বাস্তব জীবনের কোনও গল্প বা চেতনা নেই। একাকীত্ব দূর করার ক্ষেত্রে এআই সাময়িক সহায়ক হলেও, মানুষের সত্যিকারের কল্যাণের জন্য একে অপরের মধ্যকার সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ বন্ধনই অপরিহার্য।

ফরাসি দার্শনিক পল রিকোরের মতে, প্রকৃত সুখ ও কল্যাণ মূলত পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল; যা ব্যক্তিগত ইচ্ছা, বন্ধুত্বের আদান-প্রদান এবং সমাজ বা প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। বিজ্ঞানও এই ধারণাকে সমর্থন করে। হার্ভার্ডের বিখ্যাত ৮০ বছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পদ বা খ্যাতি নয়, বরং ঘনিষ্ঠ ও খাঁটি সম্পর্কই মানুষের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ